কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মার্ক কার্নি

কানাডার ২৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মার্ক কার্নি, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। শুক্রবার (১৪ মার্চ) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর প্রায় এক দশকের শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে।

৫৯ বছর বয়সী মার্ক কার্নি এর আগে ব্যাংক অব কানাডা এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও, রাজনীতিতে তিনি তুলনামূলক নতুন মুখ। তবুও লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে বিপুল সমর্থন পেয়ে তিনি জয়লাভ করেন। দলের ৮৬ শতাংশ সদস্য তার পক্ষে ভোট দেন, যা তার প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন।

কার্নি এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রী হলেন, যখন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডীয় ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কার্নি বলেছেন, “আমরা এই (বাণিজ্য) লড়াই চাইনি। কিন্তু কানাডিয়ানরা সবসময় প্রস্তুত থাকে, যখন কেউ তার হাতের গ্লাভস ফেলে দেয়। হকি খেলার মতো বাণিজ্য লড়াইয়েও কানাডা জিতবে।”

এছাড়া, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প কটাক্ষ করে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গভর্নর ট্রুডো’ বলে অভিহিত করেছেন। জবাবে কার্নি বলেন, “আমেরিকা কানাডা নয়। এবং কানাডা কখনো, কোনোদিন, কোনোভাবেই আমেরিকার অংশ হবে না।”

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কার্নি তার মন্ত্রিসভায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন।

মেলানি জোলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে বহাল রয়েছেন।

ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

ডোমিনিক লেব্লাঙ্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছেন।

কার্নির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কার্নির নেতৃত্বে লিবারেল পার্টির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, লিবারেল ও কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে জনপ্রিয়তার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী আগামী এপ্রিলের শেষ দিকে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কার্নি জানিয়েছেন, তার মূল লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক পুনর্গঠন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন। কানাডার জনগণ এখন তার নেতৃত্বে কীভাবে দেশ এগিয়ে যায়, সে দিকেই নজর রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *