
গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির বিষয়টি জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আজ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
গাজীপুরে বেশ কিছুদিন ধরেই ঘোড়ার মাংস কম দামে বিক্রি হচ্ছিল। যেখানে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, সেখানে ঘোড়ার মাংস মাত্র ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। কম দামের কারণে সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তরা এটি কেনার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
প্রথমদিকে বাণিজ্যিকভাবে মাত্র একটি ঘোড়া জবাই করা হলেও, পরবর্তীতে প্রতি সপ্তাহে ৬-৭টি ঘোড়া জবাই করা হতে থাকে। তবে, বিষয়টি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নজরে আসার পরই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঘোড়ার মাংস খাওয়া হালাল নাকি হারাম—এ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে এ নিয়ে বিভিন্ন মতামত থাকলেও, মূল উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর প্রতারণা। অভিযোগ উঠেছে, তারা কম দামে ঘোড়ার মাংস কিনে তা গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “জনগণের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করেছি। এ ধরনের প্রতারণা বরদাস্ত করা হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোড়ার মাংস সাধারণত খাওয়ার উপযোগী হলেও, এটি গরু বা খাসির মাংসের বিকল্প নয়। দীর্ঘদিন সংরক্ষিত ঘোড়ার মাংসে কিছু ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সরকারি নির্দেশনার পর, গাজীপুরে এখন ঘোড়ার মাংস বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে, স্থানীয়দের দাবি, এ বিষয়ে আরও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা না ঘটে।